AL-HADIS

হাদীসের কথা :-

” আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো সর্বোত্তম আমল কোনটি? জবাবে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলোঃ তারপর কোন আমল? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। আবার জিজ্ঞাস করা হলোঃ এরপর কোন আমল? জবাবে তিনি বললেন, মাবরূর হজ্জ (কবূল হজ্জ)।”—–[ সহীহ বুখারী ২৬, ১৫১৯ ও সহীহ মুসলিম ৮৩ ]

” ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং হজ্জ ও উমরা পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান। আল্লাহ তাদের আহ্বান করেছেন, তারা সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। তারা আল্লাহর কাছে যা চাইছে আল্লাহ তাই তাদের দিয়ে দিচ্ছেন।”—– [ ইবনে মাজাহ ২৮৯৩ ]

“রাসুল(সঃ) বলেন- হজ্জ ও উমরা পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান। তারা দোয়া করলে তা কবূল হয়ে যায় এবং গুনাহ মাফ চাইলে তা মাফ করে দেয়।”—–  [ ইবনে মাজাহ ২৮৯২ ]

“রাসুল(সঃ) বলেন- তিন ব্যক্তি আল্লাহর মেহমানঃ ক) হাজী খ) উমরা পালনকারী গ) আল্লাহর পথে জিহাদকারী।”—–[ নাসাঈ ]

” হাসান ইবনু আলী রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আরজ করল আমি একজন ভীতু ও দুর্বল ব্যক্তি। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি এমন একটি জিহাদে চলো যা কণ্টকাকীর্ণ নয় (অর্থাৎ হজ্জ পালন করতে চলো ) ।”—–[ তাবারানী ]

” আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-বয়স্ক, শিশু, দুর্বল ও নারীর জিহাদ হলো হজ্জ এবং উমরা পালন করা।”—–[ নাসাঈ-২৬২৬]

” আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো জিহাদকে সর্বোত্তম আমল মনে করেন। আমরা (নারীরা) কি জিহাদ করতে পারব না? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হলো মাবরূর হজ্জ (কবূল হজ্জ)।”—–[ সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম ]

” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-হা, নারীদের উপর জিহাদ ফরয। তবে এ জিহাদে কোন মারামারি ও সংঘাত নেই। আর সেটা হলোঃ হজ্জ ও উমরা পালন করা।”—–[ আহমাদ-২৪৭৯৪ ]

” আবূ হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহকে খুশী করার জন্য হজ্জ করল এবং হজ্জকালে যৌন সম্ভোগ ও কোন প্রকার পাপাচারে লিপ্ত হল না, সে যেন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হবার দিনের মতই নিষ্পাপ হয়ে বাড়ী ফিরল।”—–[ সহীহ বুখারী- ১৫২১ ]

” আমর ইবনুল আসকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন-তুমি কি জান না ইসলাম গ্রহণ করলে পূর্বের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। তদ্রূপ হিজরতকারীর আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং হজ্জ পালনকারীও পূর্বের গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায়।”—–[ সহীহ মুসলিম-১২১]

” আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-তোমরা হজ্জ ও উমরা পালন কর। কেননা হজ্জ ও উমরা উভয়টি দারীদ্রতা ও পাপরাশিকে দূরীভূত করে যেমনিভাবে রেত স্বর্ণ, রৌপ্য ও লোহার মরিচা দূর করে দেয়। আর মাবরূর হজ্জের বদলা হল জান্নাত।”—–[ তিরমিযী-৮১০ ]

” আবূ হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-এক উমরা থেকে অপর উমরা পালন করার মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে হয়ে যাওয়া পাপরাশি এমনিতেই মাফ হয়ে যায়। আর মাবরূর হজ্জের বিনিময় নিশ্চিত জান্নাত।”—–[ সহীহ বুখারী-১৭৭৩ ]

” বুরাইদা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-হজ্জে খরচ করা আল্লাহর পথে (জিহাদে) খরচ করার সমতূল্য সাওয়াব। হজ্জে খরচকৃত সম্পদকে সাতশত গুণ বাড়িয়ে এর প্রতিদান দেয়া হবে।”—–[ আহমাদ ]

” আয়েশাˆ(রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আরাফাতের দিন এত অধিক সংখ্যক লোককে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা অন্য কোন দিন দেন না। এরপর তিনি (হাজীদের) নিকটবর্তী হয়ে ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করে বলেন, এরা কি চায়? (অর্থাৎ হাজীরা যা চাচ্ছে তা তাদেরকে দিয়ে দেয়া হল।)”—–[ সহীহ মুসলিম ]

” রাসুল(সঃ) বলেন-সর্বোত্তম দোয়া হল আরাফার দিনের দোয়া।”—–[ তিরমিযী ]

“হজরত আবু উমামাহ(রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, নবী(সঃ) কে প্রশ্ন করা হয় যে, কোন্ কোন্ সময়ে দোয়া কবুল হয়ে থাকে । নবীজী(সঃ) উত্তরে  বলেন-শেষ রাতে এবং প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে সবচাইতে বেশি দোয়া কবুল হয় ।”—–[ তিরমিযী,২য় খণ্ড-১৮৮পৃ, ফতহুলবারী শারাহ্ সহীহ বুখারী,১১ খণ্ড-১৬০পৃ ] ।

” রাসুল(সঃ) বলেন-রমযান মাসের উমরা পালন করা আমার সাথে (অর্থাৎ নবীজির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে) হজ্জ করার সমতূল্য।”—–[ সহীহ বুখারী ]

” রাসুল(সঃ) বলেন-হাজ্‌রে আস্‌ওয়াদ ও রুক্‌নে ইয়ামানী স্পর্শ করলে গুনাহ মাফ হয়ে যায়। যে ব্যক্তি কাবা ঘর সাতবার তাওয়াফ করে দু’রাকাত সালাত বা নামাজ আদায় করে সে যেন একটি গোলাম আযাদ করল। বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে গিয়ে যে ব্যক্তি একটি পা মাটিতে রাখল, আবার এটি উঠাল এর প্রত্যেকটির জন্য তাকে ১০টি সাওয়াব, ১০টি গুনাহ মাফ এবং তার ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।”-—-[ আহমাদ ]

” রাসুল(সঃ) বলেন-মসজিদুল হারামে একবার সালাত আদায় করা অন্য মসজিদে (মাসজিদে নববী ব্যতীত) এক লক্ষ বার সালাত আদায়ের চেয়েও বেশী সাওয়াব।”—–[ আহমাদ ]

” আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-ইয়াহুদী ও নাসারারা চুল ও দাড়িতে খেযাব লাগায় না। সুতরাং তোমরা খেযাব লাগিয়ে তাদের বিপরীত কর ।”—–[ সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ আহাদীছুল আম্বীয়া ] ।

” নবী সাললাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-আখেরী যামানায় একদল লোকের আগমণ হবে যারা সাদা চুল-দাড়ি কালো রং দিয়ে পরিবর্তন করবে। তারা জান্নাতের গন্ধও পাবেনা।”—–[ আবূ দাঊদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তারাজ্জুল,গায়াতুল মুরাম, পৃষ্ঠা নং- ৮৪ ] ।

” মহানবী (সঃ) বলেন-যে ব্যক্তি আযান শোনা সত্ত্বেও মসজিদে জামাআতে এসে নামায আদায় করে না, কোন ওজর না থাকলে সে ব্যক্তির নামায কবুল হয় না।”—–[ আবূ দাঊদ ৫৫১, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম, সঃ জামে ৬৩০০ নং ]

” একটি অন্ধ লোক নবী (সঃ)এর নিকট এসে নিবেদন করল-হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আমার কোন পরিচালক নেই, যে আমাকে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে।সুতরাং সে নিজে বাড়িতে নামায পড়ার জন্য আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) এর নিকট অনুমতি চাইল। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। কিন্তু যখন সে পিঠ ঘুরিয়ে রওনা দিল, তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন, তুমি কি আহবান (আযান)শুনতে পাও? সে বলল, ‘জি হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, তাহলে তুমি সাড়া দাও(অর্থাৎ মসজিদেই এসে নামায পড়।)”—–[ সহীহ মুসলিম ] ।

” রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন আছে। আমার ইচ্ছা হচ্ছে যে, জ্বালানী কাঠ জমা করার আদেশ দিই। তারপর নামাযের জন্য আযান দেওয়ার আদেশ দিই। তারপর কোন লোককে লোকেদের ইমামতি করতে আদেশ দিই। তারপর আমি স্বয়ং সেই সব (পুরুষ) লোকদের কাছে যাই (যারা মসজিদে নামায পড়তে আসেনি)এবং তাঁদেরকে সহ তাদের ঘর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিই।”—–[ সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম ] ।

” আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন-যাকে এ কথা আনন্দ দেয় যে, সে কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌র সঙ্গে মুসলিম হয়ে সাক্ষাৎ করবে, তাঁর উচিত, সে যেন এই নামাযসমূহ আদায়ের প্রতি যত্ন রাখে, যেখানে তাঁর জন্য আযান দেওয়া হয় (অর্থাৎ মসজিদে)। কেননা, মহান আল্লাহ তোমাদের নবী (সঃ) এর নিমিত্তে হিদায়াতের পন্থা নির্ধারণ করেছেন। আর নিশ্চয় এই নামাযসমূহ হিদায়েতের অন্যতম পন্থা ও উপায়। যদি তোমরা (ফরয) নামায নিজেদের ঘরেই পর, যেমন এই পিছিয়ে থাকা লোক নিজ ঘরে নামায পড়ে, তাহলে তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার করবে। আর (মনে রেখো) যদি তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার কর, তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা পথহারা হয়ে যাবে। আমি তোমাদের লোকেদের এই পরিস্থিতি দেখেছি যে, নামায (জামাতসহ পড়া) থেকে কেবল সেই মুনাফিক (কপট মুসলিম) পিছিয়ে থাকে, যে প্রকাশ্য মুনাফিক। আর (দেখেছি যে, পীড়িত)ব্যক্তিকে দুজনের (কাঁধের) উপর ভর দিয়ে নিয়ে এসে (নামাযের) সারিতে দাঁড় করানো হতো।”—–[ সহীহ মুসলিম ] ।

” প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন-তোমাদের মধ্যে যে কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন বসার পূর্বে ২ রাক্‌আত নামায পড়ে নেয়। অন্য এক বর্ণনায় আছে, সে যেন ২ রাক্‌আত নামায পড়ার পূর্বে না বসে।”—– [ সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম ] ।

” রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়ে না, তার নামাজ হয় না।”-—-[ ইমাম বুখারী উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেন, ‘আযান’ অধ্যায়, হা/৭৫৬; মুসলিম, ‘সালাত’ অধ্যায়, হা/৩৯৪ ] ।

” হুযাইফাহ ইব্নু ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম; এই ভয়ে যেন আমি ঐ সবের মধ্যে পড়ে না যাই। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা জাহিলীয়্যাতে অকল্যাণকর অবস্থায় জীবন যাপন করতাম অতঃপর আল্লাহ আমাদের এ কল্যাণ দান করেছেন। এ কল্যাণকর অবস্থার পর আবার কোন অকল্যাণের আশঙ্কা আছে কি? তিনি বললেন, হাঁ, আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঐ অকল্যাণের পর কোন কল্যাণ আছে কি? তিনি বললেন, হাঁ, আছে। তবে তা মন্দ মেশানো। আমি বললাম, মন্দ মেশানো কী? তিনি বললেন, এমন একদল লোক যারা আমার সুন্নাত ত্যাগ করে অন্যপথে পরিচালিত হবে। তাদের কাজে ভাল-মন্দ সবই থাকবে। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কি আরো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন হাঁ, তখন জাহান্নামের দিকে আহবানকারীদের উদ্ভব ঘটবে। যারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে তাকেই তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, তারা আমাদেরই সম্প্রদায়ভুক্ত এবং কথা বলবে আমাদেরই ভাষায়। আমি বললাম, আমি যদি এ অবস্থায় পড়ে যাই তাহলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ দেন? তিনি বললেন, মুসলিমদের দল ও তাঁদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম, যদি মুসলিমদের এহেন দল ও ইমাম না থাকে? তিনি বলেন, তখন তুমি তাদের সকল দল উপদলের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করবে এবং মৃত্যু না আসা পর্যন্ত বৃক্ষমূল দাঁতে আঁকড়ে ধরে হলেও তোমার দীনের উপর থাকবে।”-—-[ সহীহ মুসলিম ৩৩/১৩ হাঃ ১৮৪৭, আ.প্র. ৩৩৩৮, ই.ফা. ৩৩৪৫ ] ।

” হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক নামাযেই ক্বিরাআত আছে। সুতরাং আল্লাহর রসূল (সাঃ) যা আমাদেরকে শুনিয়েছেন, তা আমি তোমাদেরকে শুনালাম এবং যা চুপেচুপে পড়েছেন, তা চুপেচুপে পড়লাম।’ এক ব্যক্তি বলল, ‘যদি আমি সূরা ফাতিহার পর অন্য কিছু না পড়ি?’ তিনি বললেন, ‘যদি অন্য কিছু পড় তাহলে উত্তম। না পড়লে সূরা ফাতিহাই যথেষ্ট।”—–[ সহীহ বুখারী ৭৭২, সহীহ মুসলিম  ৩৯৬ নং ] ।

” রসূল (সাঃ) বলেন-কিয়ামতের দিন বান্দার নিকট থেকে তার আমল সমূহের মধ্যে যে আমলের হিসাব সর্বাগ্রে নেওয়া হবে, তা হল নামায। নামায ঠিক হলে সে পরিত্রাণ ও সফলতা লাভ করবে। নচেৎ (নামায ঠিক না হলে) ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুতরাং (হিসাবের সময়) ফরয নামাযে কোন কমতি দেখা গেলে আল্লাহ তাবারাকা অতাআলা ফিরিশ্‌তাদের উদ্দেশ্যে বলবেন, ‘দেখ, আমার বান্দার কোন নফল (নামায) আছে কি না।’ অতএব তার নফল নামায দ্বারা ফরয নামাযের ঘাটতি পূরণ করা হবে। অতঃপর আরো সকল আমলের হিসাব অনুরুপ গ্রহণ করা হবে।”—–[ আবূদাঊদ, সুনান ৭৭০, তিরমিযী, সুনান ৩৩৭, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ১১৭নং, সহিহ তারগিব ১/১৮৫ ] ।

” রাসুল(সঃ) বলেন-যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে কাপড় পরবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেন না এবং তাকে পবিত্র করবেন না; বরং তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।”-—-[ সহীহ মুসলিম হা/৩০৬, ১/৭১ পৃঃ; মিশকাত হা/২৭৯৫; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৩২ ] ।

” জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) লা‘নত করেছেন সূদ দাতা, সূদ গ্রহীতা, সূদের হিসাব লেখক এবং সূদের সাক্ষীদ্বয়ের উপর এবং বলেছেন, (পাপের দিক থেকে) তারা সকলেই সমান।”—–[  সহীহ মুসলিম হা/১৫৯৮; মিশকাত হা/২৮০৭ ] ।

” আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী (সঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার সম্পদ ও সন্তান রয়েছে। আমার পিতা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী। তিনি বললেন, তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার জন্য। তোমাদের সন্তানেরা তোমাদের উত্তম উপার্জন। সুতরাং তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপার্জন থেকে ভক্ষণ কর।”-—-[ আবুদাউদ হা/৩৫৩০; মিশকাতা হা/৩৩৫৪ ] ।

***

” রাসুল(সঃ) [ তাশাহহুদের বৈঠকে ] বাম হাতের চেটোকে বাম হাঁটুর উপর বিছিয়ে দিতেন। কখনো বাম হাঁটুকে বামহাতের লোকমা বা গ্রাস বানাতেন। ডান হাতের (তর্জনী ছাড়া) সমস্ত আঙ্গুলগুলোকে বন্ধ করে নিতেন। আর তর্জনী (শাহাদতের) আঙ্গুল দ্বারা কেবলার দিকে ইশারা করতেন এবং তার উপরেই নিজ দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতেন (মুসলিম, সহীহ ৫৭৯, ৫৮০নং, আহমাদ, মুসনাদ, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ) । কখনো বা ইশারার সময় তিনি তাঁর বুড়ো আঙ্গুলকে মাঝের আঙ্গুলের উপর রাখতেন (মুসলিম, সহীহ ৫৭৯নং, আহমাদ, মুসনাদ) । আর উক্ত উভয় আঙ্গুলকে মিলিয়ে গোল বালার মত গোলাকার করে রাখতেন (আবূদাঊদ, সুনান ৯৫৭নং, নাসাঈ, সুনান, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ, ইবনে হিব্বান, সহীহ প্রভৃতি) । কখনো বা (আরবীয়) আঙ্গুল গণনার হিসাবের ৫৩ গোনার মত করে রাখতেন। অর্থাৎ, কনিষ্ঠা, অনামিকা ও মধ্যমাকে চেটোর সাথে লাগিয়ে তর্জনীকে লম্বা ছেড়ে এবং বৃদ্ধার মাথাকে তর্জনীর গোড়াতে লাগিয়ে রাখতেন।”—–(মুসলিম, সহীহ ৫৮০, মিশকাত ৯০৬নং) ।

” উম্মুল মু’মেনীন উম্মে সালামাহ হিন্দ্ বিন্‌তে আবী উমাইয়া হুযাইফাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অদূর ভবিষ্যতে তোমাদের উপর এমন শাসকবৃন্দ নিযুক্ত করা হবে, যাদের (কিছু কাজ) তোমরা ভালো দেখবে এবং (কিছু কাজ) গর্হিত। সুতরাং যে ব্যক্তি (তাদের গর্হিত কাজকে) ঘৃণা করবে, সে দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে এবং যে আপত্তি ও প্রতিবাদ জানাবে, সেও পরিত্রাণ পেয়ে যাবে। কিন্তু যে ব্যক্তি (তাতে) সম্মত হবে এবং তাদের অনুসরণ করবে (সে ধ্বংস হয়ে যাবে)। সাহাবীগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না?’ তিনি বললেন, ‘‘না; যে পর্যন্ত তারা তোমাদের মধ্যে নামায কায়েম করবে।’’—– [সহীহ মুসলিম-১৮৫৪, তিরমিযী-২২৬৫, ৪৭৬০, আহমাদ-২৫৯৮৯, ২৬০৩৭, ২৬১৮৮]

” রাসুল(সঃ) বলেন-কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে এবং মানুষের মাঝে অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করবে’’।—–[ সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইলম।]

” রাসুল(সঃ) বলেন-আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তর থেকে ইলমকে টেনে বের করে নিবেন না; বরং আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নিবেন। এমনকি যখন কোন আলেম অবশিষ্ট থাকবেনা তখন লোকেরা মূর্খদেরকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে কোন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বিনা ইলমেই ফতোয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরা গোমরাহ হবে এবং মানুষদেরকেও গোমরাহ করবে’’।—–[ সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইলম।]

“আমর বিন আখতাব (রাঃ) বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ফজর নামায পড়লেন। অতঃপর মিম্বারে উঠে যোহর নামায পর্যন্ত ভাষণ দিলেন। যোহর নামায আদায় করে পুনরায় ভাষণ শুরু করে আসর নামায পর্যন্ত ভাষণ দান করলেন। অতঃপর আসর নামায শেষে ভাষণ শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ভাষণ দিলেন। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত যা হবে সবই বলে দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে জ্ঞানী তারাই এগুলো মুখস্থ রেখেছেন।”—–[ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান ]

‘‘রাসুল(সঃ) বলেন-নিশ্চয়ই কিয়ামতের পূর্বে অন্ধকার রাত্রির মত ঘন কালো অনেক ফিতনার আবির্ভাব হবে। সকালে একজন লোক মুমিন অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হবে। বিকালে সে কাফেরে পরিণত হবে। বহু সংখ্যক লোক ফিতনায় পড়ে দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে তাদের চরিত্র ও আদর্শ বিক্রি করে দিবে। অপর বর্ণনায় এসেছে, তোমাদের একজন দুনিয়ার সামান্য সম্পদের বিনিময়ে তার দ্বীন বিক্রি করে দিবে’’।—–[ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান,  তিরমিজী ]

“হুজায়ফা (রাঃ)এর হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, তিনি একদা উমার বিন খাত্তাব (রাঃ)এর কাছে বসা ছিলেন। উমার (রাঃ) বললেনঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত ফিতনার হাদীছ মুখস্থ রেখেছে? হুজায়ফা (রাঃ) বললেনঃ মানুষ ধন-সম্পদ, স্ত্রী-পরিবার ও সন্তান-সন্ততি নিয়ে ফিতনায় পড়ে যে গুনাহর কাজে লিপ্ত হবে নামায, সাদকাহ, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং অন্যান্য সৎকাজ তা মিটিয়ে দিবে। উমার (রাঃ) বললেনঃ আমি আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করছিনা। আপনাকে সেই ফিতনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছি, যা সাগরের ঢেউয়ের মত আসতে থাকবে। হুজায়ফা (রাঃ) বললেনঃ হে আমীরুল মুমিনীন! এ ফিতনায় আপনি পতিত হবেন না। কারণ আপনার মাঝে এবং ফিতনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ সেই দরজাটি খুলে দেয়া হবে? না কি বল প্রয়োগ করে ভেঙ্গে ফেলা হবে? হুজায়ফা (রাঃ) বললেন; বরং তা ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমার (রাঃ) বললেনঃ তাই যদি হয়, তাহলে কোন দিন তা বন্ধ করা সম্ভব হবেনা। হুজায়ফা (রাঃ) বলেনঃ আমি বললামঃ হ্যাঁ, তাই।
সাহাবীগণ বলেনঃ আমরা হুজায়ফাকে জিজ্ঞেস করলামঃ উমার (রাঃ) কি জানতেন সেই বন্ধ দরজা কোনটি? তিনি বললেনঃ দিনের পর রাত্রির আগমণ যেমন নিশ্চিত, তেমনি নিশ্চিতভাবেই তিনি তা জানতেন। হাদীছের শেষাংশে এসেছে সেই বন্ধ দরজাটি ছিলেন উমার (রাঃ) স্বয়ং নিজেই।”—–[  সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।]

‘‘রাসুল(সঃ) বলেন-আমার উম্মতের দু’টি বিশাল দল পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। তাদের মাঝে ভয়াবহ যুদ্ধ হবে। কিন্তু উভয়ের দাবী হবে একটাই’’।—–[  সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।]

‘‘অচিরেই বিভিন্ন রকম ফিতনার আবির্ভাব ঘটবে। ফিতনার সময় বসে থাকা ব্যক্তি ফিতনার দিকে পায়ে হেঁটে অগ্রসরমান ব্যক্তির চেয়ে এবং পায়ে হেঁটে চলমান ব্যক্তি আরোহী ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক নিরাপদ ও উত্তম হবে। ফিতনা শুরু হয়ে গেলে যার উট থাকবে সে যেন উটের রাখালি নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং যার ছাগল থাকবে, সে যেন ছাগলের রাখালি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আর যার চাষাবাদের যমীন আছে, সে যেন চাষাবাদের কাজে ব্যস্ত থাকে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলোঃ হে আল্লাহর নবী! যার কোন কিছুই নেই সে কি করবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ পাথর দিয়ে তার তলোয়ারকে ভোঁতা করে নিরস্ত্র হয়ে যাবে এবং ফিতনা থেকে বাঁচতে চেষ্টা করবে।
অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! আমি কি আমার দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি আমার দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি আমার দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছি? অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! কেউ যদি আমাকে জোর করে কোন দলে নিয়ে যায় এবং সেখানে গিয়ে কারো তলোয়ার বা তীরের আঘাতে আমি নিহত হই, তাহলে আমার অবস্থা কী হবে? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ‘‘সে তার পাপ এবং তোমার পাপের বোঝা নিয়ে জাহান্নামের অধিবাসী হবে’’।—–[ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান।]

‘‘রাসুল(সঃ) বলেন-আমি তোমাদের জন্যে এমন দু’টি বস্ত্ত রেখে যাচ্ছি যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবেনা। তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাত’’।-—- [ মুআত্তা ইমাম মালেক। মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীছ নং- ১৮৬ ]

فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَ سُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ تَمَسَّكُوْا بِهَا عَضُّوْا عَلَيْهَا بِالَّنَواجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْاُمُوْرِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٍ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٍ

‘‘রাসুল(সঃ) বলেন-তোমরা আমার সুন্নাত এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতের অনুসরণ করবে। তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং উহার উপর অটল থাকবে। আর তোমরা নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করা হতে বিরত থাকবে। কেননা প্রতিটি নব আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতের পরিণামই ভ্রষ্টতা’’।—– [ আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সুন্নাহ। হাদীছ নং- ১৭৬১]

” হুযায়ফা (রাঃ) ফিতনার সময় করণীয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে রাসুল(সঃ) বলেন-তুমি মুসলমানদের জামাআত ও তাদের ইমামের অনুসরণ করবে। হুযায়ফা বলেনঃ আমি বললামঃ তখন যদি মুসলমানদের কোন জামাআ’ত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি ফিতনা সৃষ্টিকারী সকল ফির্কা পরিত্যাগ করবে। মৃত্যু পর্যন্ত তুমি এ অবস্থায় থাকবে ’’।—– [ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসলমানদের জামা’আতকে আঁকড়িয়ে ধরা ওয়াজিব।]

“রাসুল(সঃ) বলেন-ফিতনার সময় আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকা আমার নিকট হিজরত করে আসার মত’’।—– [ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।]

“রাসুল(সঃ) বলেন-আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন’’।—–[ সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইল্ম।]

 “রাসুল(সঃ) বলেন-কা’বাগৃহের নিকট জিবরীল (আহমাদ, মুসনাদ) আমার দু’বার ইমামতি করেন; প্রথমবারে তিনি আমাকে নিয়ে যোহরের নামায তখন পড়লেন, যখন সূর্যঢলে গিয়ে তার ছায়া জুতোর ফিতের মত (সামান্য) হয়েছিল। অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে আসরের নামায পড়লেন যখন প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হয়েছিল। অতঃপর আমাকে নিয়ে মাগরেবের নামায পড়লেন তখন, যখন রোযাদার ইফতার করে ফেলেছিল। (অর্থাৎ সূর্যাস্তের সাথে সাথে।) অতঃপর এশার নামায তখন পড়লেন, যখন (সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশের অস্তরাগ) লাল আভা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। আর আমাকে নিয়ে ফজরের নামায তখন পড়লেন, যখন রোযাদারের জন্য পানাহার হারাম হয়ে গিয়েছিল।
দ্বিতীয় দিনে তিনি আমাকে নিয়ে যোহরের নামায তখন পড়লেন যখন প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হয়েছিল। আসরের নামাযে আমার ইমামতি তখন করলেন, যখন প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হয়েছিল। অতঃপর আমাকে নিয়ে মাগরেবের নামায তখন পড়লেন, যখন রোযাদার ইফতার করে ফেলেছিল। অতঃপর রাতের এক তৃতীয়াংশ গত হলে তিনি এশার নামায পড়লেন। আর আমাকে নিয়ে ফজরের নামায তখন পড়লেন, যখন (ভোর) ফর্সা হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তিনি আমার প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে মুহাম্মাদ! এ হল আপনার পূর্বে সকল নবীগণের ওয়াক্ত। আর এই দুই ওয়াক্তের মধ্যবর্তী ওয়াক্তই হল নামাযের ওয়াক্ত।”—– [ আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, মিশকাত ৫৮৩নং ]

“আল্লাহর রসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল,  ‘কোন আমল সর্বশ্রেষ্ঠ?’ উত্তরে তিনি বললেন, “আওয়াল অক্তে নামায পড়া।”—– [ সহীহ আবূদাঊদ, সুনান ৪৫২, সহীহ তিরমিযী, সুনান ১৪৪, মিশকাত ৬০৭নং ]

“হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাঃ) শেষ জীবন পর্যন্ত দ্বিতীয় বার কখনো শেষ অক্তে নামায পড়েন নি।”—– [ সহীহ তিরমিযী, সুনান ১৪৬, মিশকাত ৬০৮নং ]

“সূরা ফাতিহা শেষ করে রাসুল(সঃ),  (জেহরী নামাযে) সশব্দে টেনে ‘আ-মীন’ বলতেন।”—– [ সহীহ বুখারী জুযউল ক্বিরাআহ্‌, আবূদাঊদ, সুনান ৯৩২, ৯৩৩নং ]

 “রাসুল(সঃ) বলেন-ইমাম যখন ‘গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম অলায যা-ল্লীন’ বলবে, তখন তোমরা ‘আমীন’ বল। কারণ, ফিরিশ্‌তাবর্গ ‘আমীন’ বলে থাকেন। আর ইমামও ‘আমীন’ বলে। (অন্য এক বর্ণনা মতে) ইমাম যখন ‘আমীন’ বলবে, তখন তোমরাও ‘আমীন’ বল। কারণ, যার ‘আমীন’ বলা ফিরিশ্‌তাবর্গের ‘আমীন’ বলার সাথে সাথে হয়- (অন্য এক বর্ণনায়) তোমাদের কেউ যখন নামাযে ‘আমীন’ বলে এবং ফিরিশ্‌তাবর্গ আকাশে ‘আমীন’ বলেন, আর পরস্পরের ‘আমীন’ বলা একই সাথে হয় -তখন তার পূর্বেকার পাপরাশি মাফ করে দেওয়া হয়।”—–[ সহীহ বুখারী ৭৮০-৭৮২, ৪৪৭৫, ৬৪০২, সহীহ মুসলিম,  আবূদাঊদ, সুনান ৯৩২-৯৩৩, ৯৩৫-৯৩৬, নাসাঈ, সুনান, দারেমী, সুনান ]

“রাসুল(সঃ) বলেন-ইয়াহুদ কোন কিছুর উপর তোমাদের অতটা হিংসা করে না, যতটা সালাম ও ‘আমীন’ বলার উপর করে।”—– [ ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ, সহিহ তারগিব ৫১২নং ]

“রাসুল(সঃ) আরো বলেন, ওরা জুমুআহ -যা আমরা সঠিকরুপে পেয়েছি, আর ওরা পায় নি, কিবলাহ্‌ -যা আল্লাহ আমাদেরকে সঠিকরুপে দান করেছেন, কিন্তু ওরা এ ব্যাপারেও ভ্রষ্ট ছিল, আর ইমামের পশ্চাতে আমাদের ‘আমীন’ বলার উপরে যতটা হিংসা করে, ততটা হিংসা আমাদের অন্যান্য বিষয়ের উপর করে না।”—–[ আহমাদ, মুসনাদ, সহিহ তারগিব ৫১২নং ]

“রাসুল(সঃ) বলেন- নিশ্চয় আল্লাহ প্রথম যে জিনিস সৃষ্টি করেন, তা হল কলম। তিনি তাঁকে বললেন, ‘লিখো’। সে বলল, ‘প্রভু! কি লিখব?’ তিনি বললেন, ‘কিয়ামত পর্যন্ত প্র্যত্যেক জিনিসের ভাগ্য লিখো।”—–[ আবূ দাউদ ৪৭০২, তিরমিযী ২১৫৫ নং ]

“আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) বলেছেন-তোমরা দাড়ি বাড়াও আর মোছ ছোট কর, পাকা চুলে (কালো ছাড়া অন্য রঙ) খেযাব লাগাও এবং ইয়াহুদ ও নাসারার সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।”—–[ আহমাদ, সহীহুল জামে ১০৬৭ নং ]

“রাসুল(সঃ) বলেন-মোছ ছেঁটে ও দাড়ি রেখে অগ্নিপূজকদের বৈপরীত্য কর।”—–[ সহীহ মুসলিম ২৬০ নং ]

“আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার নিকট তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি এবং সকল মানুষের চেয়ে আধিক প্রিয় না হব।”—–[ সহীহ বুখারী হা/১৫, ‘ঈমান’ অধ্যায়, বঙ্গানুবাদ বুখারী (তাওহীদ পাবলিসেশন্স) ১/১৭ পৃঃ; সহীহ মুসলিম হা/৪৪; মিশকাত হা/৭ ]

“আব্দুল্লাহ ইবনু মা‘আবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি তিনটি কাজ করবে সে পরিপূর্ণ ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করবে। যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহ্র ইবাদতে লিপ্ত থাকে এবং স্বীকার করে যে আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই; যে ব্যক্তি প্রত্যেক বছর তার সম্পদের যাকাত হিসাবে উত্তম মাল দান করে এবং বৃদ্ধ বয়সের, রোগগ্রস্থ, ত্রুটিপূর্ণ, নিকৃষ্ট মাল প্রদান করে না; বরং মধ্যম মানের মাল প্রদান করে। আল্লাহ তোমাদের নিকট তোমাদের উত্তম মাল চান না এবং নিকৃষ্ট মাল প্রদান করতেও নির্দেশ দেননি।”-—-[ আবুদাউদ হা/১৫৮২;  সহীহুল জামে‘ হা/৩০৪১ ]

“আবু মালেক আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, পরিপূর্ণভাবে ওযূ করা ঈমানের অংশ বিশেষ। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাল্লাকে পূর্ণ করে। ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ আসমান ও যমিনকে পূর্ণ করে। নামায হল নূর বা আলো। আর যাকাত হল প্রমাণ। ধৈর্য আলো। আর কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ।”—– [ নাসাঈ হা/২৪৩৭; ইবনু মাজাহ হা/২৮০ ]

***

“হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন :-যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে, রমযান মাসের রোজা রাখবে এবং সাতটি বড় গুনাহ হতে দূরে থাকবে, তার জন্যে জান্নাতের দুয়ার উন্মুক্ত থাকবে এবং কিয়ামতের দিন তাকে বলা হবে যে, নিশ্চিন্তে ও পূর্ণ নিরাপত্তা সহকারে এতে প্রবেশ কর ।”
—–[নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]

“হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন :-তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী কাজ হতে দূরে থাক, সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল ! সেই সাতটি কাজ কী কী ? উত্তরে তিনি বললেন :১)আল্লাহর সাথে শিরক করা ,২)জাদু করা, ৩)কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, যাকে কতল করাকে আল্লাহ হারাম করে দিয়েছেন, ৪)সুদ খাওয়া, ৫)এতীমের মাল-সম্পদ আত্মসাৎ করা, ৬)জিহাদের ময়দান হতে পলায়ন করা, ৭)পবিত্র স্বভাব অসতর্ক রমণীর উপর ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ আনয়ন করা ।”
—–[সহীহ বুখারী]।

“উম্মাহাতুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ)হতে বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন, মুসলমানদের উপর যে কোন বিপদ মুসিবতই আসে, আল্লাহপাক-এর বদলে তার গোনাহ মিটিয়ে দেন ।এমন কী তার শরীরে একটি কাঁটা বিদ্ধ হলেও ।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)ও হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ)হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন :-একজন মুসলমান কোন যাতনা, রোগ, কষ্ট, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, নির্যাতন ও শোকের শিকার হলে, এমনকি তার একটি কাঁটা বিদ্ধ হলেও এর বদলে আল্লাহপাক তার গুনাহ মাফ করে দেন ।
হযরত কায়াব (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন :-মুমিনের উদাহরণ হলো যেমন শস্য ক্ষেত্রের কোমল চারা গাছ ।হাওয়ায় দোলায় দোলে ।একবার কাত হয়, আবার সোজা হয়ে দাঁড়ায় ।আর মুনাফিকের উদাহরণ হলো যেমন বিরাটকায় বৃক্ষ ।সদা সর্বদা দৃঢ়ভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ।কিন্তু শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত হলে এক ঝটকাতেই সমূলে উৎপাটিত হয়ে যায় ।”
—–[সহীহ বুখারী]।

“হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন যে, আল্লাহপাক বলেন : যখন কোন বান্দাহ আমার প্রতি এক বিঘত অগ্রসর হয় আমি তার প্রতি এক হাত অগ্রসর হই, আর যখন আমার প্রতি এক হাত অগ্রসর হয় তখন আমি তার প্রতি এক গজ অগ্রসর হই, আর যখন সে আমার দিকে পায়ে হেঁটে অগ্রসর হয় তখন আমি তার প্রতি দৌড়ে অগ্রসর হই ।”
—–[সহীহ বুখারী]।

“হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন :-আমি কি তোমাদের সেই আমলের কথা বলব না যার বরকতে আল্লাহপাক গুনাহসমূহকে মাফ করে দেন এবং মর্যাদা বাড়িয়ে দেন ।সাহাবীগণ আরজ করলেন ,হে আল্লাহর রাসূল !আমাদের সেগুলির কথা বলেদিন ।তখন তিনি বললেন-কষ্ট ও অসহ্য অবস্থা সত্ত্বেও পূর্ণমাত্রায় অযু করা ।মসজিদসমূহের দিকে অধিক হারে পা বাড়ানো এবং এক নামাযের পর পরবর্তী নামাযের অপেক্ষায় থাকা ।মূলত এগুলোই হচ্ছে রিবাত বা সীমান্ত প্রহরা দেয়া ।”
—–[সহীহ মুসলিম]।

“হযরত উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন :-যে ব্যক্তি আল্লাহর রেজামন্দির লক্ষ্যে মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহপাক তার জন্য জান্নাতে একটি মহল নির্মাণ করবেন ।”
—–[সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]।

“হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন :-মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার যাবতীয় কাজকর্মের সুযোগ ও মেয়াদ শেষ হয়ে যায় । কিন্তু তিন প্রকারের কাজের ফল সে তখনও পেতে পারে ।১)সদাকায়ে জারিয়ার পুণ্য, ২)উপকারী জ্ঞান বা বিদ্যার শুভফল এবং ৩)এমন সচ্চরিত্রবান সন্তান,যারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে ।”
———[আল-হাদীস] ।

“হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন :-মুসলমান সেই ব্যক্তি যার মুখ ও হাতের অনিষ্টকারিতা হতে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে । আর মুমিন সেই ব্যক্তি যার নিকট মানুষ তাদের জান ও মাল সম্পর্কে নিরাপদ থাকে ।”
———[আল-হাদীস] ।

 

“হজরত আবু হোরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেন, তোমরা কি জানো কোন বস্তু মানুষকে সর্বাপেক্ষা বেশী বেহেস্তে প্রবেশ করাবে ? তা হলো আল্লাহর ভয় ও সৎ চরিত্র । তোমরা কি জানো মানুষকে কোন বস্তু সর্বাপেক্ষা বেশী দোজখে নিয়ে যাবে ? তা হলো দুটি ছিদ্র পথ ১)মুখ ২)লজ্জাস্হান ।”
—–(তিরমিযী,ইবনে মাজাহ,মেশকাত-৬৭৩ পৃষ্ঠা)

“হজরত আবু হোরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেন, দুই ব্যক্তি যখন গালা-গালিতে লিপ্ত হয়, সমস্থ গোনাহ সেই ব্যক্তির উপর বর্তাবে যে আগে গালমন্দ শুরু করেছে, দ্বিতীয় ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন না করা পর্যন্ত ।”
(মুসলিম,হাদীস নং-৬৩৫৭)

“রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেন, যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হোয়ে যায় ।”
—–(আহমাদ,আবু দাউদ,মিশকাত ২য় খন্ড,১২৪৬ পৃষ্ঠা,হাদীস নং ৪৩৪৭,মিশকাত, দিল্লী ছাপা ১ম খন্ড,৩৭৫ পৃষ্ঠা)।

“রাসুলুল্লাহ (সাঃ)কে শাবান ও রমজান ছাড়া, পর পর দু মাস রোজা রাখতে অন্য সময়ে দেখা যায়নি ।”
             —–(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসায়ী,মিশকাত,১৭৪ পৃষ্ঠা)।

“হজরত আবু হোরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন-আমার বন্ধু রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়াছেন, প্রতিমাসে তিনদিন করে রোজা পালন করা ও দু-রাকাত সালাতুয যুহা এবং ঘুমানোর আগে বিতর নামাজ আদায় করা ।                                                —–(সহীহ আল-বোখারী, রোজা অধ্যায় )।

“রাসুল( সাঃ) বলেন-শিক্ষা অর্জন করা,প্রত্যেক নর ও নারীর জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য ৷”-[আল-হাদীস] ৷

“রাসুল( সাঃ) বলেন-পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকো, কেননা ইসলাম পবিত্র (ধর্ম) ৷”—[আল-হাদীস] ৷

“রাসুল( সাঃ) বলেন-যে অপর কে অনুগ্রহ করে না, আল্লাহ ও তার উপর অনুগ্রহ করেন না ৷”-[আল-হাদীস] ৷

 

“Umm Salamah (May Allah be pleased with her) reported: The Prophet (ﷺ) said, “You will have rulers some of whom you approve and some of whom you will disapprove. He who dislikes them will be safe, and he who expresses disapproval will be safe, but he who is pleased and follows them (will be indeed sinful)”. His audience asked: “Shall we not fight them?” He replied, “No, as long as they establish Salat amongst you”. —–[Sahih Muslim].

“RASUL(S) Said-Seeking knowledge is compulsory for every Muslim, Man and Woman.”—[AL HADITH].

“RASUL(S) Said-Always keep yourself neat and clean, as ISLAM is the Religion of Cleanliness.”—[AL HADITH].

“RASUL(S) Said-One who does not show mercy, will not be blessed with mercy .”              —[AL HADITH].